ঘুমের মধ্যে পা নাড়ানোর কারণ ও প্রতিকার

আমাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যার ঘুমের মধ্যে পা নাড়ানোর অভ্যাস রয়েছে। এই সমস্যাকে ইংরেজিতে রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম বা আরএলএস বলা হয়। সাধারণত ২৫-৭৫% ক্ষেত্রেই এটি জেনেটিক কারণে হতে পারে। এছাড়া পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, আয়রন, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম বা ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, পারকিনসন্স ডিজিজ, কিডনি ফেইলিউর, ডায়াবেটিস, ভেনাস ডিসঅর্ডার, থাইরয়েড ডিসঅর্ডার বা স্নায়বিক ব্যাধির কারণেও এমনটা হতে পারে। অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস, ব্যথানাশক, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তা এই সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

আরএলএস বেশিরভাগই মধ্যবয়সী বা বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সমস্যার সময়মতো চিকিৎসা করা হলে তা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। যদিও বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে আরএলএস কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যার সৃষ্টি করে না। খুব গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রোগীর দৈনন্দিন কাজকর্মকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এর লক্ষণ ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং এরপর সেগুলোর গতি বৃদ্ধি পায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও খারাপ হয়। খুব অল্প ক্ষেত্রেই আরএলএস নিজে থেকেই চলে যায়।

বেশিরভাগ চিকিৎসকই বলে থাকেন যে আরএলএস এর কোনো বিশেষ কারণ নেই, ফলে এর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে ওঠে। যদি কোনো রোগের কারণে এমনটা হয়ে থাকে তবে সেই রোগের চিকিৎসা করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে। আপনি যদি আরএলএস-এ ভোগেন তবে এই উপায়গুলো মেনে চললে উপকার পাবেন-

খাবারের দিকে খেয়াল রাখুন

খাবারের তালিকার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এতে অনেক অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। আপনার যদি দিনে কয়েক কাপ কফি পান করার অভ্যাস থাকে তবে আপনাকে প্রথমে যা করতে হবে তা হলো, ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানো। অ্যালকোহল গ্রহণ এবং ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তাও রোধ করতে হবে। কারণ এই দুই অভ্যাসই আরএলএস-এর লক্ষণ আরও বাড়িয়ে তোলে।

ঘুমের রুটিন মেনে চলুন

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এই রুটিন মেনে চললে আপনার শরীর ঘুমের প্যাটার্নে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। এতে আরএলএস-এর সমস্যা কমিয়ে আনা সহজ হবে এবং অস্বস্তি কম সৃষ্টি করবে। তাই প্রতিদিন যতটা সম্ভব একই সময়ে ঘুমান এবং জেগে উঠুন।

সক্রিয় থাকুন

দিনের সময়টাতে আরও সক্রিয় থাকার চেষ্টা করুন। গবেষণায় বলা হয়েছে যে, অলস জীবনযাপন আরএলএস-এর সমস্যাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে। তবে সারাক্ষণ ছোটাছুটি বা অতিরিক্ত শরীরচর্চা করবেন না। কারণ এতে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

আইস প্যাক বা হিট কম্প্রেস

আরএলএস-এর সমস্যা বেশি অনুভূত হলে তা কমানোর জন্য ঘরোয়া কোনো উপায় বেছে নিতে পারেন। যখন খুব বেশি অস্বস্তি হবে, তখন পায়ে আইস প্যাক বা হিট কম্প্রেস লাগান। এতে আরাম পাবেন।

আয়রনের পরিমাণ বাড়ান

আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে সেখান থেকে নানা সমস্যা শুরু হতে পারে। আরএলএস-এর সমস্যা কমাতে নিয়মিত আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। খাবারের তালিকায় প্রচুর সবুজ শাক-সবজি যোগ করুন।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

সকালে খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা

খালি পায়ে হাঁটার আছে অনেক উপকারিতা। বিশেষ করে সকালে খালি পায়ে হাঁটলে শরীর নানাভাবে উপকৃত হয়। সকালে উঠে কিছু সময়ের জন্য বাইরে বের হয়ে পড়ুন। এরপর খালি পায়ে সবুজ ঘাসের উপর কিছুক্ষণ হাঁটুন। এতেই পাবেন জাদুকরী উপকারিতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটাই সবচেয়ে সহজ ব্যায়াম। তাই সময় পেলেই হাঁটুন। এতে নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা, কোলেস্টেরলসহ আরও অনেক সমস্যা। জেনে নিন সকালে খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা-

ফুট পজিশন ঠিক থাকে
আমরা হাঁটতে পারি মানেই যে আমাদের হাঁটার ভঙ্গি সঠিক, এমন কিন্তু নয়। অনেক সময় ভুল ভঙ্গিতেও মাটিতে পা পড়তে পারে। অনেক সময় বয়স বাড়লেও অনেকের ফুট পজিশন ঠিক থাকে না। তাই এই সমস্যার সমাধানে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। নিয়মিত সকালে খালি পায়ে হাঁটলে ফুট পজিশনিং ঠিক হয়ে যাবে দ্রুতই। কারণ এই অভ্যাসের ফলে পেশি ও জয়েন্টের নমনীয়তা বাড়ে। ফলে পায়ে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।

ভারসাম্য বজায় রাখে
আমাদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন অনেকের শরীরের ভারসাম্য এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে আপনার খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস। নিয়মিত যদি সকালে খালি পায়ে হাঁটেন তবে ভারসাম্য ঠিক রাখা সহজ হবে। এতে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়তে হবে না। হোঁচট খাওয়া, পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটারও ভয় কম থাকবে।

জয়েন্ট ঠিক থাকে
অনেকেই আছেন যারা হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। বেশিরভাগ সময় এই দুই জয়েন্টের সমস্যার কারণে বাতের ব্যথার সূত্রপাত হয়। তাই সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস শুরু করুন। এতে হাঁটু ও কোমরের জয়েন্ট ঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এতে বাতের ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে অনেকটাই।

পায়ের পেশি শক্ত হয়
আমরা যখন জুতা পরে হাঁটি তখন পায়ের পেশির ওপর খুব একটা চাপ পড়ে না। তবে যখন খালি পায়ে হাঁটি তখন আমাদের পা এবং কোমরের পেশির ওপর চাপ বাড়ে। যে কারণে এই অংশের পেশির জোর বাড়ে। তাই পায় ও কোমরের পেশি শক্ত করার জন্য নিয়মিত সকালে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

গরমে ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, করণীয় জেনে নিন

গরমের তীব্রতায় হাঁসফাঁস করছে মানুষ। শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে তাপদাহের দাপটে। এই সময়ে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই দেখা দিতে পারে অনেকের। কিডনি থেকে শুরু করে মূত্রনালী পর্যন্ত যেকোনো স্থানে ইনফেকশন হলে তাকে ইউরিন ইনফেকশন বলা হয়। ইউরিন ইনফেকশন হলে প্রস্রাবের সময় জ্বালা, প্রস্রাবে রক্ত, পেটে ব্যথা, তলপেটে ব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

গরমের সময় তাপের কারণে শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। যে কারণে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায় অনেকটােই। ফলে প্রস্রাব পর্যাপ্ত হয় না। যে কারণে ইনফেকশনের আশঙ্ক বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যা কেবল নারীরই নয়, হতে পারে পুরুষেরও। তাই সতর্ক হতে হবে সবারই। জেনে নিন এই গরমে ইউরিন ইনফেকশন থেকে বাঁচার উপায়-

পানি পান

ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। কারণ শরীরে পানির ঘাটতি হলে প্রস্রাব হয় না ঠিকভাবে। তখন ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে। এ কারণেই হয় সংক্রমণ। প্রস্রাব ঠিকভাবে হলেতার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া শরীরের বাইরে ব্যাক্টেরিয়া বের হয়ে আসে। যে কারণে ইনফেকশন হওয়ার ভয় থাকে না। গরমের সময়ে তাই অন্তত ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ডাবের পানি, ফলের রস

শুধু পানিই নয়, খেতে হবে অন্যান্য তরল খাবারও। কারণ শুধু পানি পান করেই ইউরিন ইনফেকশন সারানো সম্ভব হলেও এতটা পানি সবার পক্ষে পান করা সম্ভব হয় না। তাই এক্ষেত্রে ডাবের পানি ও ফলের রস সহায়ক খাবার হতে পারে। ডাবের পানি ও ফলের রস থেকে শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে কাজ করে। সেইসঙ্গে শরীরে খনিজ, ভিটামিন এবং ইলেকট্রোলাইটসের ঘাটতি মেটায়। যে কারণে সব ধরনের সংক্রমণ দূরে থাকে।

প্রস্রাব চেপে রাখবেন না

অনেকেরই এই বদ অভ্যাস আছে। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাসের কারণে দেখা দিতে পারে ইউরিন ইনফেকশন। কারণ প্রস্রাব ধরে রাখলে ব্লাডারে অনেকটা সময় ধরে ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। এই সময়ের মধ্যেই জীবাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন হতে পারে ইউরিন ইনফেকশন। তাই প্রস্রাব কখনোই ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় ধরে রাখবেন না। বরং প্রস্রাব পেলেই ব্লাডার পরিষ্কার করুন। এতে ইউরিন ইনফেকশনের ভয় কমবে।

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

যে পজিশনে ঘুমালে বাড়বে আয়ু, হবে না রোগ

সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর বাড়িতে এসে আমরা সোজা বিছানায় গিয়েই শান্তি পাই। তবে ঘুমানোর সময় আমরা কীভাবে শোয়ে থাকি সে বিষয়ে খেয়াল রাখি না। কিন্তু আমরা কোন দিক করে ঘুমোচ্ছি সেটা আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ে। কেউ কেউ ঘুমায় ডান দিকে করে আবার কেউ কেউ ঘুমায় বাম দিকে করে। 

কেউ ভুল দিকে ঘুমোলে তার প্রভাব স্বাস্থ্যের ওপর পড়তে দেখা যায়। আসুন জেনে নিই কোন দিকে করে ঘুমালে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।বাঁ দিকে ঘুমানো শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে মনে করা হয়। এটি হার্টের উপর খুব বেশি চাপ দেয় না। এটি আরও ভালভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়।

অনেক সময়ই রাতের খাবার শেষে তাৎক্ষণিক ঘুমিয়ে পড়লে বাঁ দিকে শোওয়াই উপযুক্ত। এতে আপনার খবার ধীরে ধীরে হজম হয়ে যায়। এর সঙ্গে আপনার শরীরের তাপমাত্রাও ভালো থাকে। কারণ শরীরের বাঁ দিকেই থাকে পাচনতন্ত্র আর হৃদযন্ত্র এদিকেই থাকে। তাই এর উল্টো অর্থাৎ ডান দিক করে যখন কেউ ঘুমোয় তখন খাবার তাড়াতাড়ি হজম হয় না যা শরীরের জন্য বেশ লোকসান বলে মনে করা হয়।

ঘুমের সময় কখনোই বালিশ নিয়ে সোজা হয়ে ঘুমানো উচিত নয়, কারণ এর প্রভাব সরাসরি আপনার মেরুদণ্ডের হাড়ের ওপর পড়ে। অন্যদিকে, আপনি যদি আপনার বাঁ দিক করে ঘুমান, তাহলে আপনার মেরুদণ্ডের হাড় সোজা থাকবে এবং আপনি কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন না।

অন্য দিকে, কিছু লোকের পেট চেপে ঘুমোনোর অভ্যাস রয়েছে। পেট চেপে ঘুমানো উচিত নয়, এটা করলে শরীরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। কারণ পেট চেপে ঘুমালে শরীরের ওপর বেশি ওজন পড়ে। যার ফলে হার্ট সংক্রান্ত রোগের আশঙ্কা থেকে যায়।

গর্ভবতী নারীদের জন্য বাঁ দিকে করে শোয়া সবচেয়ে ভালো। এর কারণে গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে না। এছাড়া গোড়ালি, হাত ও পায়ে ফোলার সমস্যা থাকে না।

অনেক সময় সঠিক দিকে না শোয়ার ফলে হজমশক্তির গণ্ডগোল দেখা যায়। কিন্তু বাঁ দিকে শোয়ার ফলে পেটে থাকা অ্যাসিড ওপরের বদলে নীচে চলে যায়, যে কারণে অ্যাসিডিটি ও বুকে জ্বালাভাব হয় না।

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

শরীরে ক্ষতিকর ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় যেসব খাবার

জীবনযাত্রার বদলের সঙ্গে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছেন মানুষ। কিছু খাবারে পিউরিন বেশি থাকে। এগুলোর মাধ্যমে শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড কিডনি পরিশোধন করতে পারে না। তা স্ফটিক আকারে জমা হয় গাঁটে গাঁটে। শুরু হয় ব্যথা। এছাড়াও বিবিধ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি দেখা দেয়। দুই ধরনের পিউরিন রয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুখী। এক্সোজেনাস পিউরিন খাবারের মাধ্যমে শরীরে তৈরি হয়। আর অভ্যন্তরীণ পিউরিন তৈরি করে শরীর।

খাবারে উপস্থিত প্রোটিন পিউরিনে ভেঙে গেলে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। যখন ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের হতে পারে না, তখন এটি স্ফটিক আকারে গাঁটে গাঁটে জমাট বাঁধতে শুরু করে। তাই খাবারে নিয়ন্ত্রণ এনে পিউরিন কমানো জরুরি। শরীর হজমে সক্ষম হলে পিউরিন বাইরে নির্গত হয়। যদি পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে পিউরিন প্রক্রিয়া করতে সক্ষম না হলে তৈরি হয় ইউরিক অ্যাসিড। তা বিবিধ সমস্যা তৈরি করে। যেমন-

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি- অত্যাধিক পিউরিন গ্রহণের ফলে হাইপারুরিসেমিয়া হতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা যখন রক্তের প্রবাহে খুব বেশি ইউরিক অ্যাসিড থাকে। শরীরে উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিডনিতে সমস্যা-  শরীরে অত্যাধিক পিউরিন ইউরিক অ্যাসিডকে স্ফটিক ও শক্ত করে তোলে। কিডনিতে পাথর জমে। কিডনিতে পাথরের বেদনাদায়ক হতে পারে। অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

বাত ও গাঁটে ব্যথা- গেঁটেবাত হলো একটি নির্দিষ্ট ধরনের বাত যা ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিক আকারে জমা হওয়ার কারণে ঘটে। প্রায়শই শরীরের গাঁটের চারপাশে যেমন কনুই, হাঁটু বা হাতের গাঁচগুলোতে জমা হতে থাকে ইউরিক অ্যাসিড। গাঁট ফুলে যায়। এমনকি হাড় বেঁকে যেতেও পারে।

পিউরিন যুক্ত খাবার বন্ধ করতে হবে 

১। রেড মিট- মাংস কম খাওয়া দরকার। বিশেষ করে রেড মিট এড়িয়ে চলুন। মুরগির লিভার পুষ্টির একটি ভালো উৎস। কিন্তু এটি একটি উচ্চ পিউরিনযুক্ত। তাই উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাংস এড়ান।

২। অ্যালকোহল- বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহলে পিউরিনের মাত্রা পরিবর্তিত হয়। বিয়ারে বিশেষ করে পিউরিন বেশি থাকে। নিয়মিত খাওয়া হলে তা ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায়।

৩। সামুদ্রিক খাবার- সামুদ্রিক খাবার ও কিছু মাছে সর্বোচ্চ মাত্রায় পিউরিন থাকে। তাই এগুলো খাওয়া বন্ধ করুন।

৪। মিষ্টি- অতিরিক্ত চিনি বাড়ায় ইউরিক অ্যাসিড। স্ফটিক বৃদ্ধির কারণ। তা ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখলে মিষ্টি এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী খাবেন- 

আপনি যদি গাউট বা অন্যান্য পিউরিন-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন, তাহলে আপনার ডাক্তার কম পিউরিন ডায়েটের পরামর্শ দিতে পারেন। নিম্নলিখিত খাবারে পিউরিনের পরিমাণ কম:

লেবু, কমলা, ডালিম, আপেল ও চেরি ইত্যাদি খেলে ইউরিক অ্যাসিড কমে। সবুজ শাকসবজি (ফুলকপি, পালং শাক, মাশরুম এবং সবুজ মটর ছাড়া) কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খান। এছাড়া পানি পান বাড়ান। মেথি খান। এছাড়া
তিসির বীজ খেতে পারেন।

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

তীব্র গরমে হঠাৎ ঠান্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

তানভীরুল ইসলাম : গরমের তীব্রতা বাড়লেই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীতে ভরপুর হয়ে উঠে হাসপাতালগুলো। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে এপ্রিল ও মে মাসে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। গত বছরের এ সময়টাতেও যেখানে রাজধানীর আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে দৈনিক ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার থেকে ১২শ পর্যন্ত, সেখানে এ বছর তীব্র গরমেও হাসপাতালে আসা রোগীর হার স্বাভাবিক রয়েছে।

যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট গবেষণা নেই, তারপরও কেউ কেউ বলছেন, অতিমাত্রার তাপের কারণে জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারছে না। আবার কেউ বলছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় ও রোজার মাসে দিনব্যাপী পানি না খাওয়ায় ডায়রিয়া রোগী কম।তীব্র গরমে হঠাৎ ঠান্ডা পানি না খাওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের

সাধারণত, গরমের সময়ে পানির ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। সবাই বেশি বেশি পানি পান ব্যবহার করেন। কারণ, গরমে পানির তৃষ্ণা বাড়ে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানুষ যে পানি পান করছে সেই পানি দূষিত। যার ফলে গরম এলেই হঠাৎ পাতলা পায়খানার উপদ্রব শুরু হয়।

গরমের তীব্রতা বাড়লেও ডায়রিয়া আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্য হারে কম

আইসিডিডিআর,বির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের (২০২২ সাল) ১৬ মার্চ পূর্ববর্তী ৬০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দৈনিক ডায়রিয়া রোগী ভর্তির সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায়। সেদিন হাসপাতালে ১ হাজার ৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছিল। ২১ মার্চ থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৩০০-এর বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর দিন দিন রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। এমনকি ২৮ মার্চ ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৩৪ জনে দাঁড়ায়।

তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানায়, ২০২২ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) সারা দেশে সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৫৫ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে আইসিডিডিআর,বির মহাখালী হাসপাতাল।

আরও পড়ুন : তীব্র গরমে খেতে পারেন এই ফলগুলো

dhakapost
সাম্প্রতিক ছবি

কেউ কেউ বলছেন, অতিমাত্রার তাপের কারণে জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারছে না। আবার কেউ বলছেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় ও রোজার মাসে দিনব্যাপী পানি না খাওয়ায় ডায়রিয়া রোগী কম

২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে গরমের তীব্রতা অনেক বাড়লেও এখন পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্তে কোনো প্রভাব পড়েনি। আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, গত সপ্তাহের তুলনায় দেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বাড়লেও সেটিকে উল্লেখযোগ্য হারে ‘বেড়েছে’ বলা যাবে না। হাসপাতাল সূত্র বলছে, গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে দৈনিক ডায়রিয়া রোগী ছিল সাড়ে চারশর মধ্যে, এরপর ১২ এপ্রিল রোগী হয়ে গেল ৪৯১ জন, ১৩ এপ্রিল ৫১৫ জন, ১৪ এপ্রিল ৫৩০ জন, ১৫ এপ্রিল ৫৬৩ জন, ১৬ এপ্রিল ৫২২ জন এবং ১৭ এপ্রিল সাড়ে পাঁচশ। সবমিলিয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচশ থেকে সাড়ে পাঁচশর মধ্যেই রোগী ঘুরপাক খাচ্ছে।

জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম, তীব্র গরমেও ঘাম কম

আইসিডিডিআর,বির ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশনস শাখার সিনিয়র ম্যানেজার একেএম তারিফুল ইসলাম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গরম সাধারণত দুই রকমের– একটি হলো যখন বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা বেশি থাকে। বাংলাদেশে বেশির ভাগ সময় এই চিত্রটা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে অনেকটা মরুভূমির আবহাওয়া চলছে, যেখানে গরমের তাপ প্রচুর কিন্তু বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ কম। বাতাসে যদি আর্দ্রতা বেশি থাকে, তাহলে ঘাম বেশি হয়, আর্দ্রতা কম থাকলে ঘামও কম হয়। যে কারণে শরীর দুর্বল কম হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শরীর ঠিক মতো লড়াই করতে পারে।

dhakapost
ফাইল ছবি

আরও পড়ুন : গরমে শসা খাওয়ার উপকারিতা

তিনি বলেন, বর্তমানে যে গরম চলছে, এই গরমে সাধারণত ডায়রিয়ার প্রকোপ কম হয়ে থাকে। কারণ এখনকার গরমে বাতাসের আদ্রতা কম, এ কারণে তীব্র গরমেও মানুষ কম ঘামে। কিন্তু যে গরমে মানুষ তীব্র ঘামে, তখন শরীর থেকে অনেক লবণ-পানি চলে যায়।

তারিফুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন ডায়রিয়া হলো একটি পানিবাহিত রোগ, এর বড় একটি কারণ হলো, আমরা যে পানিটা খেয়ে থাকি তা অনেকাংশেই দূষিত। এই পানিটা যখন আমরা কম খাই তখন আমাদের বডি সেটিকে এনকাউন্টার করতে পারে। আর যখনই আমরা বেশি পানি খাই, এক গ্লাসের জায়গায় দুই গ্লাস পানি খাই, তখন জীবাণুটা শরীরের জন্য প্রতিরোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। যে কারণে ওই সময়টাতে আমরা অসুস্থ হয়ে যাই।

রোজায় তীব্র তাপমাত্রায় পানি পানের হার কম

আইসিডিডিআর,বির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানির কারণেই পেটের ভেতর ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে এবং ডায়রিয়া সংক্রমণ দেখা দেয়। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবছর ডায়রিয়া কম হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে রোজার মাস। বর্তমানে রমজান মাস চলার কারণে স্বাভাবিকভাবেই দিনের বেলায় মানুষের পানি কম খাওয়া হয়।

তারিফুল ইসলাম বলেন, বছরের দুই সময়ে এই আউটব্রেকটা বেড়ে যায়। বর্ষার আগে যেটাকে আমরা প্রি-মনসুন পিরিয়ড বলি আর শীতের আগে। প্রি-মনসুন সিজনে আমাদের আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা সাতশ থেকে সাড়ে সাতশতে চলে যায়। কিন্তু এখন আমাদের হাসপাতলে রোগী আছে সবমিলিয়ে পাঁচশর মতো, যেটিকে আমরা স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিই। এখনো ডায়রিয়া আক্রান্ত সংখ্যা বাড়তে পারে যদি ইমিউনিটি বেড়ে যায়।

dhakapost
সাম্প্রতিক ছবি

রোগী কিছুটা বাড়লেও এটাকে ‘বেড়েছে’ বলা যাবে না : আইসিডিডিআর,বি হাসপাতাল প্রধান

আইসিডিডিআর,বি হাসপাতাল প্রধান ডা. বাহারুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন পর্যন্ত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। রোগীর সংখ্যা কিছু পরিমাণ বাড়লেও সেটি পাঁচশর মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, এই কারণে আমরা এটিকে ওই অর্থে বেড়েছে বলছি না। গত কয়েকদিন ধরে আইসিডিডিআর,বিতে ৫১০-৫২০ জনের মধ্যে আছে। যদিও সপ্তাহখানেক আগে রোগীর সংখ্যা সাড়ে চারশর মধ্যেই ছিল। আমরা ৫০০ পর্যন্ত স্বাভাবিকই ধরি, রোগী কিছুটা বাড়লেও বলার মতো বাড়েনি। কারণ, গত বছরের এসময়টাতেও দৈনিক এক হাজার-১২শ করে রোগী থাকত।

তিনি বলেন, গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত আইসিডিডিআর,বি হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগী ছিল সাড়ে চারশর মতো, এরপর ১২ এপ্রিল রোগী হয়ে গেল ৪৯১ জন, ১৩ এপ্রিল ৫১৫ জন, ১৪ এপ্রিল ৫৩০ জন, ১৫ এপ্রিল ৫৬৩ জন, ১৬ এপ্রিল ৫২২ জন এবং ১৭ এপ্রিল সাড়ে পাঁচশ। সবমিলিয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচশ থেকে সাড়ে পাঁচশর মধ্যেই রোগী ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে এই সংখ্যা যদি ছয়শ ছাড়িয়ে যায়, তাহলে ধরে নেব যে ‘আউটব্রেক’ হচ্ছে।

২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে গরমের তীব্রতা অনেক বাড়লেও এখন পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্তে কোনো প্রভাব পড়েনি। আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, গত সপ্তাহের তুলনায় দেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ কিছুটা বাড়লেও সেটিকে উল্লেখযোগ্য হারে ‘বেড়েছে’ বলা যাবে না

বাহারুল আলম বলেন, এ বছর তো গরম অনেক তীব্র, গতবার রোগীর সংখ্যা বেশি থাকলেও এরকম গরম ছিল না। এর থেকে ধারণা করা যায়, গতবারের আউটব্রেকটা দূষিত পানির কারণেই ছিল। শুধু গরমেই যদি বাড়ত, তাহলে তো এই বছর রোগী গত বছরের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ হতো।

মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা ডায়রিয়া সংক্রমণ কম হওয়ার কারণ হতে পারে

আইসিডিডিআর,বি হাসপাতাল প্রধান বলেন, মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রাও ডায়রিয়া সংক্রমণ কম হওয়ার কারণ হতে পারে। যদিও এটা এখনো গবেষণায় প্রমাণিত নয়, কিন্তু আমাদের সাইনটিস্টরা বলছিল যে, সাধারণত ৩০ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়াগুলো সুবিধাজনকভাবে গ্রো (প্রসারিত হওয়া) করতে পারে। কিন্তু তাপমাত্রা যদি ৪০ ডিগ্রির ওপরে চলে যায়, তাহলে ব্যাকটেরিয়ার গ্রো করা খুব কঠিন। আমাদের ল্যাবগুলোতেও যখন ব্যাকটেরিয়া কালচার করা হয়, তখন ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। আর সেই তাপমাত্রা যদি বেড়ে যায়, তখন তাদের জন্য পরিবেশটা কঠিন হয়ে যায়।

গরমে সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরমটা যেহেতু অতিমাত্রায়, এসময়ে মানুষের অনেক বেশি তৃষ্ণা পাবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, তীব্র গরমের পর হঠাৎ করেই ঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত নয়। যে পানিটাই খাবেন, চেষ্টা করবেন যেন বিশুদ্ধ পানি হয়।

ডা. বাহারুল আরও বলেন, ছোটদের জন্য পরামর্শ হলো– বাচ্চাদের খাওয়ানোর সময় ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর খাওয়াতে হবে। এছাড়াও বাটি, চামচসহ যা যা প্রয়োজন হয়, সেগুলো ভালো করে ধুতে হবে। বড়দের জন্য পরামর্শ হলো– শরীরের তাপমাত্রা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অতিমাত্রার তাপে ঘরের বাইরে বের না হলেই ভালো। হঠাৎ করে কোনো প্রকার ঠান্ডা জিনিস খাওয়া যাবে না।

পারকিনসন্স রোগ লক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্য

ডা. সাইফুন নাহার  :  পারকিনসন ডিজিজ (পিডি) হলো মস্তিষ্কের একটি অবক্ষয়জনিত অবস্থা যা কিছু মোটর লক্ষণ (ধীর গতি, কাঁপুনি, অনমনীয়তা) এবং বিভিন্ন ধরণের অ-মোটর জটিলতা (পরিজ্ঞানীয় দুর্বলতা, মানসিক রোগ, ঘুমের সমস্যা এবং ব্যথা ইত্যাদি) এগুলোর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

গবেষণায় দেখা যায়, এ রোগের কোনো না কোনো ধাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ লোক বিষণ্নতার সম্মুখীন হন এবং ৪০ শতাংশ উদ্বেগজনিত ব্যাধি অনুভব করেন- যা তাদের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, জীবনের মান হ্রাস করে। এর কারণসমুহ হল-

১) জৈবিক কারণ 
পারকিনসন্স রোগ এবং বিষণ্নতা, চিন্তাভাবনা এবং আবেগের সঙ্গে জড়িত মস্তিষ্কের একই অংশকে প্রভাবিত করে। উভয় অবস্থাই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার/মস্তিষ্কের রাসায়নিক (ডোপামিন, সেরোটোনিন এবং নরএপিনেফ্রিন) এর ভারসাম্যহীনতা থাকে যা মেজাজ এবং চলাচল  নিয়ন্ত্রণ করে।

২) মনস্তাত্ত্বিক কারণ 
নেতিবাচক চিন্তা — একটি দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা মানুষের মাঝে দুঃখ, অসহায়ত্ব এবং হতাশার অনুভূতি তৈরি করতে পারে; যা একজন ব্যক্তিকে বিষণ্নতার জন্য আরও  ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। সীমাবদ্ধ জীবনধারার ফলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা সহায়ক সামাজিক যোগাযোগের  অভাব, দ্রুত অবসরগ্রহণ বা পরনির্ভরশীলতা এগুলো বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৩) পরিবেশগত কারণ
গুরুতর মানসিক চাপ, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে জীবনযাপনে কষ্ট, কিছু লোকের জন্য বিষণ্নতা সৃষ্টি করতে পারে।

৪) ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 
এরোগের চিকিৎসায় প্রেসক্রিপশনের ওষুধগুলো বিষণ্নতার মত উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।

পারকিনসন্স রোগে বিষণ্নতা নির্ণয়ের চ্যালেঞ্জ

i) কিছু বিষণ্নতার লক্ষণ PD এর সঙ্গে ওভারল্যাপ করে। উদাহরণস্বরূপ, ঘুমের সমস্যা এবং ধীর অনুভূতি উভয় অবস্থাতেই ঘটে। তাই, পারকিনসন্সে বিষণ্নতা সনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

ii) পারকিনসন্সের বিষণ্নতা নির্ণয়কে জটিল করে তুলতে পারে এমন অন্যান্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে:
• মুখের মাস্কিং ইফেক্ট, মুখের পেশিতে পারকিনসনের একটি উপসর্গ যাতে পারকিনসন্স আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে দৃশ্যমানভাবে আবেগ প্রকাশ করা কঠিন করে তুলতে পারে।

• পারকিনসন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই চিনতে পারেন না যে তাদের মেজাজের সমস্যা রয়েছে বা লক্ষণগুলো ব্যাখ্যা করতে অক্ষম, তাই তারা চিকিৎসা চান না।

এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে বিষণ্নতা চলাচল এবং জ্ঞানীয় পারকিনসনের উপসর্গ উভয়কেই তীব্র করতে পারে। চিকিৎসা যেমন কম্পন এবং অন্যান্য পারকিনসনের লক্ষণগুলোকে কমাতে পারে, তেমনি তারা বিষণ্ণতাও উপশম করতে পারে। বিষণ্নতা, যদিও এ রোগে সাধারণ লক্ষ্মণ, এটিকে প্রায়ই উপেক্ষা করা হয় এবং চিকিত্সা করা হয় না। অক্ষমতা হ্রাস এবং জীবনের মান উন্নত করার জন্য এটির চিকিত্সা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

• মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং, বিশেষত জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি (সিবিটি), বিষণ্ণতা এবং উদ্বেগ কমাতে চিন্তাভাবনা ও আচরণের ধরণ চিনতে এবং পরিবর্তন করতে সহায়তা করে।

• রুটিনমাফিক ব্যায়াম— হাঁটা, যোগব্যায়াম, বাগান করা বা অন্য কোনো কার্যকলাপ যা রোগী উপভোগ করেন তা হতাশার লক্ষণগুলোকে কমিয়ে দিতে পারে।

লেখক: সাইকিয়াট্রিস্ট এবং সাইকোথেরাপিস্ট
সহকারী অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রি
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, ঢাকা-১২০৭
ইন্টারন্যাশনাল ফেলো, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

এই গরমে গর্ভবতী মায়েরা যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

গর্ভবতী নারীদের এই গরমে সতর্ক থাকতে হবে। প্রচণ্ড গরমে কষ্ট হচ্ছে সবারই। এই সময়ে গর্ভবতী নারীদের অবস্থা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাপপ্রবাহে সুস্থ থাকার জন্য গর্ভবতীদের কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না তা জানা থাকা জরুরি। নয়তো নিজের এবং গর্ভস্থ শিশুর জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে এই উত্তপ্ত আবহাওয়া। জেনে নিন এই তীব্র গরমে সুস্থ থাকার জন্য গর্ভবতীরা কোন বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখবেন-

 

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

গর্ভবতী মায়ের শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। সেজন্য প্রতিদিন তাকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। গর্ভাবস্থায় মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, ঠোঁট মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার সমাধানে পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দিনে অন্তত ৬-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

​স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান

এই গরমে ভাজাপোড়া খাবার ববাদ দিতে হবে। সেইসঙ্গে এড়িয়ে চলতে হবে অতিরিক্ত মসলাদার খাবারও। তবে পছন্দের খাবার একেবারে বন্ধ করে দিলে তা হবু মা ও অনাগত শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ব্যালান্স বজায় রাখতে হবে। মিষ্টি কিছু খেতে ইচ্ছা করলে কিশমিশ খেজুর, ফল ইত্যাদি খাবেন। নোনতা স্বাদের কিছু খেতে ইচ্ছা হলে বাদাম, কাজু, পেস্তা ইত্যাদি খাবেন। বাইরের খাবার খেতে ইচ্ছা করলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খেতে পারবেন অল্প করে। আর এই তাপদাহ থেকে রক্ষা পেতে প্রচুর ফল ও ফলের রস খেতে হবে।

ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে

গর্ভবতী মায়েরা এই গরমে হালকা রঙের সুতির পোশাক পরবেন। পোশাক যেন ঢিলেঢালা হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এতে বেশ আরাম পাবেন। গরমের সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করলে আরাম পাবেন। যদি সুযোগ থাকে তবে সাঁতারও কাটতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়াই উত্তম।

রোদে বের হবেন না

গ্রীষ্মের এই তীব্র তাপ শরীরে শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় দুপুরে খাওয়ার পর অন্তত আধঘণ্টা ঘুমিয়ে নিলে উপকার পাবেন। এছাড়া প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা বিশ্রাম নেবেন। প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের হবেন না। তবে খুব বেশি প্রয়োজন হলে সঙ্গে ছাতা, সানগ্লাস, পানির বোতল ইত্যাদি নিয়ে তবেই বের হন।

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

গরমে শসা খাওয়ার উপকারিতা

সূর্যের দাপটে প্রাণ ওষ্ঠাগত। গরমে বাইরে বের হতেই ভয় পাচ্ছেন বেশিরভাগ মানুষ। সারাদিন পর সূর্য ডুবে গেলেও কমে না গরমের তীব্রতা। বাতাস যেন বাতাস নয়, আগুনের হলকা। এমন গরমে কোনো খাবার খেলেই ঠিকভাবে প্রশান্তি আসছে না যেন। আসলে খাবার খেতে হবে বুঝেশুনে। এই গরমে তৈলাক্ত বা অতিরিক্ত মসলাদার খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। এর বদলে খেতে হবে এমন খাবার, যা প্রশান্তি দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনতে হবে। যেসব খাবার পানির ঘাটতি মেটায় এবং শরীর শীতল রাখে, সেগুলো খেতে হবে। এ ধরনের খাবারের তালিকায় শুরুতেই থাকবে শসার নাম। শসায় থাকে পানি, ফাইবার, কার্ব, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন সি, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ফোলেট, লিউটিন, জিয়াজ্যানথিন, ভিটামিন কে, বিটা ক্যারোটিন এবং প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি খেলে এনার্জির ঘাটতি পূরণ হয় সেইসঙ্গে পাওয়া যায় শীতল অনুভূতি। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই গরমে শসা খাওয়ার উপকারিতা-

পানির ঘাটতি পূরণ করে

তীব্র গরমে আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সেইসঙ্গে ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্যও এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ শরীরে নানা সমস্যা তৈরি হয়। এমন অবস্থায় উপকারী একটি খাবার হতে পারে শসা। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পানি। তাই শসা খেলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ হয়। সেইসঙ্গে রক্ষা পাওয়া যায় পানিশূন্যতা থেকেও। এমনটাই জানিয়েছে মেডিক্যাল নিউজ টুডে। তাই এই তীব্র গরমে পানির ঘাটতি মেটাতে নিয়মিত শসা খাওয়ার অভ্যাস করুন। চাইলে শসা, লেবু, পানি ও পুদিনা পাতা দিয়ে রিফ্রেশিং ড্রিংক তৈরি করেও খেতে পারেন।

হজমের সমস্যা দূর করে

গরমে শরীরে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে তার মধ্যে হজমের সমস্যা অন্যতম। এসময় খাবার ঠিকভাবে হজম হতে চায় না। ফলস্বরূপ পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা বেড়ে যায়। এসব সমস্যার সহজ সমাধান দিতে পারে শসা। এতে পর্যাপ্ত ফাইবার রয়েছে। পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার কাজে সাহায্য করে এই ফাইবার। তাই নিয়মিত শসা খেলে পেটের সমস্যা দূরে থাকে। এই গরমে হজমের সমস্যা থেকে বাঁচতে তাই নিয়মিত শসা খান।

হাড় ভালো রাখে

যাদের বয়স একটু বেশি, হাড়ের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তারা। বাতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। নারীদের মধ্যে এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হাড় ভালো রাখতে নিয়মিত খেতে হবে শসা। কারণ এতে আছে পর্যাপ্ত ভিটামিন কে। আমাদের শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে এই ভিটামিন। যে কারণে হাড় প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে। কেবল বয়স্কদের জন্যই নয়, সবার জন্যই শসা একটি উপকারী খাবার।

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

চোখ কচলালে হতে পারে যে সমস্যা

চোখ ডললে বা কচলালে সাময়িকভাবে ভালো অনুভব হতে পারে, কিন্তু এটি স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। মাঝে মাঝে হালকা চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অল্প চোখ ডলা তেমন ক্ষতিকর হবে না, কিন্তু ঘন ঘন চোখ ডলার কারণে আপনার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে।

আপনার মারাত্মক চোখের রোগ হবেঃ ইউনিভার্সিটি অব উতাহ’র অপথ্যালমোলজি বিভাগের অধ্যাপক মার্ক মিফলিন বলেন, ‘দীর্ঘসময় ধরে চোখ ডলনের ফলে কর্নিয়া দুর্বল এবং বিকৃত হয়ে যায়- কর্নিয়া বিকৃত হওয়াকে কেরাটোকোনাস বলে।’ কর্নিয়াল টিস্যুতে অনবরত ডলন এটিকে পাতলা করে এবং অধিক শঙ্কু-আকৃতির হয়ে যায়। যথেষ্ট ড্যামেজের ক্ষেত্রে আপনার কর্নিয়াল ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হতে পারে।

আপনার কর্নিয়ায় স্ক্র্যাচ হবেঃ চোখে আইল্যাশ বা চোখের পাতার লোম অথবা ধূলিকণা পড়া অস্বস্তিকর এবং এটি চোখ ডলনে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু চোখ ডলন অবস্থাকে আরো খারাপ করতে পারে। এর ফলে আপনি কর্নিয়াতে স্ক্র্যাচ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন-এটি একটি সাধারণ অবস্থা যা একদিন বা দুই দিনের মধ্যে সেরে ওঠে, কিন্তু চিকিৎসা করা না হলে ক্ষত হতে পারে, মায়ো ক্লিনিকের মতে। এর পরিবর্তে চোখ পরিষ্কার করার জন্য পানি বা স্যালাইন ব্যবহার করুন।

আপনার গ্লকোমা আরো খারাপ হবেঃ ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের অন্তর্গত স্কুল অব অপটোমেট্রি অ্যান্ড ভিশন সায়েন্সের অধ্যাপক চার্লস ম্যাকমোনিস বলেন, ‘যদি আপনার ইতোমধ্যে চোখের জটিল রোগ গ্লকোমা থাকে, তাহলে চোখ ডলনে এটি আরো খারাপ হবে।’ চোখের সামনে তরল জমার কারণে গ্লকোমা হয়ে থাকে, যা অপটিক নার্ভকে ড্যামেজ করে এবং শেষপর্যন্ত অন্ধত্ব সৃষ্টি করে। চোখ ডলনে সেখানে রক্তপ্রবাহ ফিরে আসা বিঘ্নিত হয়, যার ফলে নার্ভ ড্যামেজ হয় এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায়।

আপনার মায়োপিয়া আরো খারাপ হবেঃঅগ্রগতিশীল মায়োপিয়া (মায়োপিয়াকে ক্ষীণ দৃষ্টি বা স্বল্প দৃষ্টি বলে) আছে এমন লোকদের চোখ ডলনে দৃষ্টিশক্তি আরো খারাপ হতে পারে।

আপনার চোখের ইনফেকশন হবেঃ আপনার হাত যতবারই ধুয়ে থাকুন অথবা জীবাণুমুক্ত করুন না কেন, তারা প্রতিদিন হাজার হাজার জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করলে হাতের ব্যাকটেরিয়া চোখে ট্রান্সফার হতে পারে যা কনজাঙ্কটিভাইটিস বা পিংক আই (যাকে চোখ ওঠা রোগ বলে) সৃষ্টি করতে পারে, আমেরিকান অপটোমেট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের মতে। যদি আপনার চোখ ইনফেক্টেড হয়, তাহলে চোখে গরম ভাপ এটি উপশমে সাহায্য করতে পারে।

আপনার চোখের পাতা ঢিলা হয়ে যাবেঃ চোখ ডলনে শুধু চোখের গোলকই নয়, চোখের পাতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডা. মিফলিন বলেন, ‘চোখ ডলনের ফলে সময়ের পরিক্রমায় চোখের ইলাস্টিসিটি হারিয়ে যেতে পারে। এটি কম মারাত্মক সমস্যা হলেও আমরা এটি হোক তা চাই না।’ কারণ কোনো শারীরিক সমস্যা-ই স্বস্তিকর নয়।

আপনার ব্লাডশট আই ও ডার্ক সার্কেল হবেঃ যদি আপনি চোখ ডলেন, আপনার চোখের ছোট রক্তনালী ফেটে যেতে পারে। এর ফলে ব্লাডশট আই বা রেড আই (লাল চোখ) হতে পারে, ওয়েবএমডি ডটকম অনুসারে। এরপর রক্ত পার্শ্বস্থ টিস্যুতে প্রবাহিত হবে, যার ফলে আপনার চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল বিকশিত হতে পারে।

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

 

জেনে নিন নখ উপড়ে গেলে কী করবেন

প্রায়ই নখে গুঁতো বা আঘাত পাই আমরা। যেমন ঘরের কোনো একটা আসবাবের পায়ার সঙ্গে পায়ের কনিষ্ঠা আঙুল লেগে নখে আঘাত পেতে পারি। চলতি পথে ভিড়ে কেউ পা মাড়িয়ে দিলে নখে আঘাত লাগে। এভাবে অনেক সময় নখ উপড়েও যায়। অনেকে আবার শখ করে নখ বড় রাখেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সামান্য আঘাতেও উপড়ে বা ভেঙে যেতে পারে নখ। যাঁরা গভীর ও কোনা করে নখ কাটেন, তাঁদের নখের কোনা দেবে গিয়ে ভেতরে ময়লা জমে ইনফেকশন হয়ে যায়। এসব নখও অনেক সময় সামান্য আঘাতে উপড়ে যেতে পারে।

কেন এমন হয়

আমাদের দেশের আবহাওয়া অনেক আর্দ্র। আর পায়ের যত্ন নেয় খুব কম মানুষ। ঠিকমতো নখ কাটার নিয়মও অনেকে জানেন না। ফলে যত্নের অভাবে অনেকের নখের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া নখ বেশি বড় রাখলে ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়।অনেক সময় সামান্য আঘাতে উপড়ে যেতে পারে নখ

কী করণীয়

নখের গোড়ায় রক্ত চলাচল আর নার্ভ সাপ্লাই দুটিই অনেক বেশি থাকে। তাই নখ উপড়ে গেলে অনেক রক্তপাত ও তীব্র ব্যথা হয়। এতে ঘাবড়ে না গিয়ে প্রথমে শুকনা কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরে রাখতে হবে। বাসায় আইস প্যাক থাকলে সেটা দিয়ে চেপে ধরে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ঠান্ডা জিনিসের স্পর্শে রক্তনালি সংকুচিত হয়, তাই রক্তপাত ও ব্যথা দুটিই কমে যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। নখ যদি পুরোটা উঠে যায়, তাহলে কিছুদিন নিয়মিত ড্রেসিং করলে ক্ষতস্থান শুকিয়ে যাবে। আর যদি আধ ভাঙা নখ রয়ে যায়, তাহলে কোনো সার্জনকে দেখিয়ে চিকিৎসা নিলে ভালো হবে।

ক্ষতস্থানের যত্ন কীভাবে করবেন

হাতের নখ নতুন করে গজাতে সময় লাগে ৬ মাস আর পায়ের নখ ১২-১৮ মাস। নখের নিচের চামড়াকে বলা হয় নেইল বেড। এটি খুব সংবেদনশীল। তাই আঘাত পেলে বা অস্ত্রোপচারের পর প্রথম সপ্তাহে নেইল বেড ঢেকে রাখতে হবে। নিয়মিত ড্রেসিং করাতে হবে। ফার্মেসিতে মেডিটুলি বা সুপ্রাটুলি নামে একধরনের ড্রেসিং কিনতে পাওয়া যায়। সেটি মাপমতো কেটে ক্ষতস্থানে লাগিয়ে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। না পাওয়া গেলে পরিষ্কার গজ পিসে ভ্যাসলিন মেখে নখ ঢেকে রাখতে হবে।

যেকোনো ক্ষত শুকাতে জিংক বি, ভিটামিন সি ভালো কাজ করে। সেই সঙ্গে ক্ষতস্থান শুকাতে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে দিনে দু-তিনটি ডিম খেতে পারলে ভালো।

প্রতিরোধের উপায়

১. নিয়মিত পায়ের যত্ন নিতে হবে। এক গামলা হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ লবণ, এক চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে তাতে দুই পা ১৫-২০ মিনিট চুবিয়ে রাখতে হবে। এরপর সাধারণ পানিতে পা ধুয়ে পুরোনো পরিষ্কার টুথব্রাশ দিয়ে নখ ও আঙুলের ফাঁকে ব্রাশ করতে হবে। এটি নিয়মিত করতে পারলে খুব ভালো। তবে কমপক্ষে সপ্তাহে একবার করতে পারলে পা ভালো থাকবে।

২. নখ কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোনাকুনি না কেটে নখের গোড়ার সমান্তরাল করে কাটা হয়। এতে নখের কোনা ভেতরের দিকে দেবে যায় না। খুব গভীর করে কাটবেন না।

৩. নখ বেশি বড় রাখা ঠিক নয়। হাতের নখ সপ্তাহে একবার আর পায়ের নখ প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে কাটতে হবে। এখন কসমেটিকসের দোকানে নকল নখ কিনতে পাওয়া যায়। ফ্যাশনের জন্য বিকল্প হিসেবে সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. মোজা পরলে প্রতিদিন ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে পরতে হবে।

*ডা. রেজা আহমদ: কনসালট্যান্ট সার্জন, ইবনে সিনা হাসপাতাল, সিলেট

 

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01918288948, 01611145788

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা যেসব খাবারে দূর হবে

এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা খুবই বিরক্তিকর এবং ব্যথাজনক। বাইরের খাবার, ভাজাপোড়া খাওয়ার কারণে এ সমস্যা আরো প্রকট হয়। অনেকেই এই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভোগে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এ সমস্যা বাড়তে থাকে। এজন্য অবশ্যই বুঝে শুনে খাবার খেতে হবে।

এমন অনেক খাবার আছে যা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমায় আর পেটের পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে। এছাড়া গ্যাস্ট্রিক কমাতে কখনোই পেট খালি রাখা যাবে না। গ্যাস্ট্রিক কমাতে পারে এমন কিছু খাবারের কথা চলুন জেনে নেওয়া যাক –

ঠাণ্ডা দুধঃ ঠাণ্ডা দুধ অনেক উপকারী গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায়। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স অর্থাৎ দুগ্ধজাত খাবারে পেটে সমস্যা হয় তারা বাদে সবাই ঠাণ্ডা দুধ খেতে পারেন এসিডিটি কমাতে। জ্বালাপোড়ার সমস্যা থেকে খুব দ্রুত মুক্তি দেয় ঠাণ্ডা দুধ।

জোয়ানঃ এসিডিটি কমাতে জোয়ান অনেক কার্যকরী। জোয়ানে এনজাইম ও বায়োক্যামিকেল রয়েছে যা এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

অ্যাপেল সিডার ভিনিগারঃ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার পেটের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। হজমের সমস্যা দূর করে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার। এক গ্লাস পানির সাথে এক থেকে দুই চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে খেয়ে নিন প্রতিদিন।

তুলসিঃ তুলসিকে বলা হয় সকল রোগের সমাধান দিতে পারে এমন ভেষজ উদ্ভিদ। গ্যাস্ট্রিকের কারণে যে জ্বালাপোড়া হয় তা দূর করে তুলসি পাতা।

মৌরিঃ হজমের সমস্যা, পেটের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে মৌরি। আপনি প্রয়োজনে মিছরির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে হজম শক্তি বাড়বে।

সাইট্রাস মুক্ত ফলঃ যেসব ফলে এসিডের পরিমাণ কম যেমন কলা, আপেল, তরমুজ পেটের জন্য ভালো। ফলগুলোতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি যা পেটের অস্বস্তি দূর করে।

ডাবের পানিঃ ডাবের পানিতে যে পটাশিয়াম রয়েছে তা পিএইচের লেভেল ঠিক রাখে যা এসিডিটি কমাতে সহায়ক।

আদাঃ আদার যে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা হজমের সমস্যা ও এসিডিটি কমায়। আদা চিবিয়ে খেতে পারেন বা চায়ের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন।

সূত্র: ডিএমপি নিউজ

নিকস্টেপস হেল্থকেয়ার 

প্রধান কার্যালয় : লতাপাতা বাজার, লতাপাতা প্লাজা ( ২য় তলা), কাপাসিয়া, গাজীপুর – ১৭৩০
ই-মেইল : niksteps@lukiye.com
মোবাইল:  01711113852 , 01910112983
Cart
Your cart is currently empty.