অনলাইনে হালাল উপার্জনের বিভিন্ন পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব

Article ক্যারিয়ার নারী উদ্যোক্তা নিউজ ও ইভেন্ট ব্যবসায়িক পরামর্শ

আসসালামু আলাইকুম। আজকে আমরা হালাল উপার্জনের বিভিন্ন পথ ও পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। সত্যিকার অর্থে আমাদের চারপাশেই লক্ষ-লক্ষ কোটি-কোটি টাকা ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় আছে। কিন্তু আমাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকার কারণে সে টাকাগুলো আমরা উপার্জন করতে পারছি না। বলতে পারেন যে এটা কিভাবে সম্ভব? নিচের কথাগুলো পড়লে আপনার কাছে বিষয়টা ক্লিয়ার হবে ইনশাআল্লাহ।

তবে নীচের বিষয়টি পড়ার আগে আপনাদেরকে একটি বিষয়ে সাবধান করছি। সেটি হলো – এখানে আমি কোন শর্টকাট পদ্ধতির কথা আপনাদেরকে বলতে পারবোনা। আমার প্রত্যেকটি পরিকল্পনাই তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। তাই আপনার যদি ধৈর্য থাকে এবং আপনি আসলেই জীবনের সফলতা অর্জন করতে চান, তাহলে মোটামুটি তিন থেকে পাঁচ বছর আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। এটা হচ্ছে মিনিমাম  সময়। আপনি বলতে পারেন এত সময় কেন লাগবে? দেখুন আমরা যে পড়াশোনা করেছি তাতে কমপক্ষে ১৫-২০ বছর আমাদের পড়াশোনার পিছনে ব্যয় হয়েছে। তাই আপনাকে বুঝতে হবে একটি জিনিসের দৃঢ় ভিত্তি গড়তে হলে অবশ্যই সময় দেওয়া প্রয়োজন। যারা পরিশ্রম করা ছাড়া কপি-পেস্ট মার্কা কাজ করতে চান, তারা আমার এই পোস্ট না পড়লেও চলবে।

হালাল উপার্জনের জন্য বর্তমানে কতগুলো ট্রেন্ডিং সাবজেক্ট হলো-

১. গ্রাফিক্স ডিজাইন

২. মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব ডিজাইন

৩. ওয়েবসাইট  ফ্রন্টএন্ড

৪. ওয়েবসাইট ব্যাকএন্ড

৫. ফুলস্ট্যাক ওয়েব ডেভলপার

৬. ডিজিটাল মার্কেটিং

৭. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

৮. টাইপিং ও প্রুফ রিডিং

৯. চায়না প্রোডাক্ট অনলাইন বিজনেস

১০. বাংলাদেশী প্রোডাক্ট অনলাইন বিজনেস

১১. হোমমেড প্রডাক্ট অনলাইন বিজনেস

১২. বইয়ের বিজনেস

১৩. ইউটিউব ভিডিও কনটেন্ট মেকিং

১৪. অনলাইন টিচিং প্লাটফর্ম

১৫. বিভিন্ন অর্গানিক পণ্য সেল

১৬. এসইও কন্টেন্ট রাইটিং 

১৬. ডিরেক্ট রেস্পন্স কপিরাইটিং

গ্রাফিক ডিজাইনে প্রচুর ইনকাম করা পসিবল। এটা নিয়ে আমি আগেও পোস্ট দিয়েছিলাম। মূলত যেটা করতে হবে, কাজ খুব ভালোভাবে শিখতে হবে। মোটামুটি তিন থেকে পাঁচ বছরের  জন্য শেখার প্ল্যান করতে হবে।  মূলত কোন কাজে দক্ষ না হলে সেখানে ভালো উপার্জন করা যায় না। তাই আমি তিন থেকে পাঁচ বছরের সময়ের কথা বলেছি। আশা করা যায় এই সময় ভালভাবে প্র্যাকটিস করলে আপনি খুব ভালো মানের একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারবেন। মূলত গ্রাফিক ডিজাইনের অনেকগুলো সেক্টর রয়েছে। যেমন লোগো ডিজাইন, টি-শার্ট ডিজাইন, ফ্লায়ার ডিজাইন, বুক কভার ডিজাইন, প্রডাক্ট কভার ডিজাইন, বিজনেস কার্ড, বিভিন্ন ভেক্টর আর্ট ইত্যাদি। যাদের এগুলো নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে তারা UDEMY, LYNDA ইত্যাদি বড় বড় যত প্রতিষ্ঠান আছে সবার প্রিমিয়াম ভিডিও কোর্স গুলো দেখবেন। সেইসাথে ইউটিউব এর যত ভালো ভালো  গ্রাফিক্স শেখার প্লেলিস্ট আছে সব গুলো কমপ্লিট করতে হবে। এরপর বিভিন্ন ডিজাইন সাইট যেমন (dribbble, behance, uplabs, pinterest) থেকে ডিজাইন নিয়ে হুবহু সেই ডিজাইন নিজে করতে হবে। এভাবে দীর্ঘদিন প্র্যাকটিস করলে আশা করা যায় যে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আপনি একজন দক্ষ ডিজাইনার  হয়ে উঠবেন ইনশাআল্লাহ। আমি এ সম্পর্কিত তেমন কোন লিংক শেয়ার করলাম না। কারন আমার উদ্দেশ্য হল আপনি নিজেই রিসার্চ করে করে কাজ শিখতে থাকবেন। এতে করে অন্যের ওপর নির্ভরতা থাকবে না। আর এই জিনিসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন আপনি কাজ করতে যাবেন আর আরেকজনের উপর নির্ভর করবেন, তখন আপনি কোন দিনই দক্ষ হতে পারবেন না। গ্রাফিক্স ডিজাইন করে প্রতি মাসে 5 থেকে 10 লক্ষ টাকা ইনকাম করছে এরকম অনেক ফ্রিল্যান্সারই আপনি দেখতে পাবেন। আর গ্রাফিক্স ডিজাইন একবার শিখলে বাংলাদেশ ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন কান্ট্রিতে আপনি বড় বড় এমাউন্টের কাজ করতে পারবেন। এছাড়াও বিভিন্ন সাইটে আপনার তৈরি করা প্রোডাক্ট এর ডিজাইন আপনি বিক্রি করতে পারবেন। এতে দেখা যাবে যে আপনার যদি 1000 প্রোডাক্ট অনলাইনে সেল করার জন্য থাকে তাহলে প্রতি মাসেই একটা বড় এমাউন্ট অটোমেটিক্যালি আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তাই এটা একটা বড় সুযোগ। সুতরাং ভেবে দেখুন আপনি এই কাজটা করতে পারবেন কিনা। প্রয়োজনে কিছু টিউটোরিয়াল দেখুন যদি পছন্দ হয় তাহলে আগাতে থাকুন। এ সম্পর্কে জানতে হলে আপনি গুগলে সার্চ করে প্রচুর ব্লগ পাবেন, ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও পাবেন, ফেসবুকেও প্রচুর গ্রুপ পাবেন।  তাই আসলে আপনার যদি শেখার প্রকৃত ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি নিজেই সবকিছু খুঁজে বের করতে পারবেন। 

মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব ডিজাইনও মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনের সাথে সম্পর্কিত। বর্তমানে সারাবিশ্বেই প্রচুর মোবাইল অ্যাপস বিভিন্ন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। তাই মোবাইল  অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডিজাইনারদের কদর খুবই বেশি। আমাদের দেশে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আছে যারা অ্যাপস নিয়ে কাজ করে। এছাড়া বাইরের কান্ট্রিগুলোতে প্রচুর ডিজাইনার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে বাইরের কাজগুলোতে দেখা যায় প্রতি কাজে 10-20 হাজার ডলারও অফার করা হয়। তাই এটা খুবই সম্ভাবনাময় একটি সাবজেক্ট। এক্ষেত্রে মোটামুটি পাঁচ বছর আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে। ডিজাইনের  আদ্যোপান্ত আপনাকে পড়াশোনা করতে হবে অনেক অনেক প্যাকটিস করতে হবে, ভালো ভালো ডিজাইন দেখতে হবে। মূলত অন্যান্য গ্রাফিক্স ডিজাইনের  কাজের চেয়ে মোবাইল ও ওয়েব ডিজাইন কিছুটা কষ্টসাধ্য। কিন্তু এতে টাকা অনেক বেশি উপার্জন করা সম্ভব।

ওয়েবসাইট ওয়েবসাইট  ফ্রন্টএন্ড (HTML,CSS, Bootstrap, JS etc.) ওয়েবসাইট ব্যাকএন্ড (PHP, JS, Python) ও ফুলস্ট্যাক ওয়েব ডেভলপার (ফ্রন্টএন্ড+ব্যাকএন্ড দুটিই পারেন এমন) কাজ যেমন শিখতে পারলে দেশে এবং বিদেশে প্রচুর কাজ আছে  এবং এদের সেলারিও অনেক বেশি।

ডিজিটাল মার্কেটিং ও সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বর্তমানে বেশ ট্রেন্ডিং একটি সাবজেক্ট এগুলোর জন্য প্রচুর প্রিমিয়াম কোর্স ও ইউটিউব প্লেলিস্ট পাওয়া যায়। এখানেও কোনো শর্টকাট নেই বরং একটি লম্বা সময় কাজ শিখতে হবে।

বাকি পয়েন্টগুলোর জন্য আর কিছু বললাম না। উপরে যা বলেছি সেগুলোই আসল কথা।  অর্থাৎ আপনাকে তিন থেকে পাঁচ বছর খুব ভালোভাবে প্রতিদিন কাজ শিখতে হবে। এভাবে যদি আপনি কঠোর সাধনা করে যেতে পারেন, তাহলে আশা করা যায় আপনি জীবনে কোন একটি কাজে দক্ষ হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আর দক্ষতা যখন আপনার এসে যাবে, তখন কাজ পেতে কোন ধরনের সমস্যা হবে না। কারণ বর্তমানে কাজ প্রচুর, কিন্তু দক্ষ জনবলের খুবই অভাব। আর আমাদের অনেক যুবক শুধুমাত্র চাকরির আশাতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছে। কিন্তু আপনি চিন্তা করেন একটি চাকরি থেকে আপনি সর্বোচ্চ কত টাকা ইনকাম করতে পারবেন 20-50 হাজার কিংবা ১ লাখ। কিন্তু বাইরের দেশগুলোতে কাজ করে আপনি  5-10 লক্ষ টাকা প্রতি মাসে ইনকাম করাও সম্ভব। আসলে এই টাকার ব্যাপারটা দক্ষতার উপর নির্ভর করে। যে যত বেশি দক্ষ তার ইনকাম বেশি হওয়ার সুযোগ থাকে। এছাড়া বিভিন্ন প্রোডাক্ট বানিয়ে সেল করলে প্যাসিভ ইনকাম অর্থাৎ অনেকটা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ইনকাম করা পসিবল।

তাই আবারও বলছি শুধু চাকরির পিছনে ছুটবেন না। কারণ চাকরি হচ্ছে একটি লিমিটেড ইনকাম। কিন্তু আপনি যদি এই ধরনের একটি দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, তাহলে আপনার জীবনের মোড় তো ঘুরবেই, আপনার পারিবারিক অবস্থাও ইনশাআল্লাহ অনেক ভালো যাবে। তাই আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি 3 থেকে 5 বছর নিজের জীবনের জন্য ইনভেস্ট করুন। কোন একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন। ইনশাআল্লাহ জীবনে আপনাকে আর পেছনে তাকাতে হবে না। 

তিন থেকে পাঁচ বছর একটি লম্বা সময় মনে হলেও, আপনি খেয়াল করে দেখবেন আপনার বিগত 5 বছর কত দ্রুত কেটে গেছে। আসলে প্রতিদিন আমাদের সময় এভাবেই চলে যাচ্ছে কিন্তু আমরা  আমাদের জীবনকে গুছিয়ে আনতে পারছি না। তাই আর বসে থাকবেন না, কাজ শিখুন।

অনেক ভাই বলতে পারেন আমিতো বর্তমানে একটি চাকরি করছি। তাহলে কি চাকরি ছেড়ে দেব অথবা চাকরি করে আমিতো সময় পাইনা। আমি বলব ভাই বর্তমানে যে চাকরি আছে সেটা করতে থাকেন। আর প্রতিদিন ফেসবুক-ইউটিউবে  যে সময়টা নষ্ট করেন সেটা বন্ধ করে কাজ শিখতে লেগে যান। ইন শা আল্লাহ দেখবেন প্রতিদিন অল্প অল্প করে কাজ শিখতে শিখতে আপনি একটি বড় পর্যায়ে চলে গেছেন। আর এই কাজ শেখার মধ্যে কোন টাকা পয়সা ইনকাম না হলেও হতাশ হবেন না। অন্তত পাঁচ বছর কন্টিনিউ ভাবে কাজ শিখতে থাকুন। ইনশাআল্লাহ পাঁচ বছর পরেই এর ফলাফল দেখতে পাবেন।

আমি উপরে যে কথাগুলো বলেছি তার জন্য প্রমাণস্বরূপ সাকিব ভাইয়ের একটি ভিডিও নিচের  কমেন্টে দিলাম ভিডিওটি অবশ্যই দেখবেন এবং ভিডিওটি দেখার পর আপনার অনুভূতি আমাকে জানাবেন। আজকে বিদায় নিচ্ছি আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

.

.

লেখক – সাইফুল ইসলাম সাইফ

Leave a Reply