চিনিতে কোনো পুষ্টি নেই এটি ঘাতক উপাদান!

নিউজ ও ইভেন্ট

ধূমপান, অ্যালকোহল, কফি, ন্যারকোটিকস ও ঘুমের ওষুধকে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য হিসাবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। কিন্তু চিনিকে আমরা কখনো মাদকদ্রব্য হিসাবে বিবেচনা করি না। অথচ চিনিও একরকম নেশা জাতীয় উপাদান, যা বারবার খেতে ইচ্ছে করে।

সুস্থ দেহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের নির্দিষ্ট অনুপাত রয়েছে। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারনে রক্তে ক্যালসিয়াম ঘাটতি হলে চিনি সাময়িকভাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কিছুক্ষণের জন্য আমরা শক্তি পাই বা ভালো অনুভব করি। কিন্তু আবার যখন ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায়, তখন দেহ আগের চেয়ে বেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং আবার চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চিনি যত খাবেন, শরীরে ততো অ্যাসিড উৎপন্ন হবে এবং নানা রোগের ঝুঁকি বাড়বে।

চিনি খেলে ক্ষুধা কমেনা বরং বাড়ে
পরিশোধিত চিনি থেকে শরীর প্রচুর ক্যালরি পায়। তবে এতে ক্ষুধা মেটে না। কারন ক্ষুধা বাড়ানোর হরমোন গ্রেলিন আরো কার্যকর হয়ে ক্ষুধা বাড়ায়। অন্য দিকে ক্ষুধা কমানোর হরমোন PYY কার্যক্ষমতা হারাতে থাকে। এর পাশাপাশি লেপটিন হরমোনের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চিনি সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত
চিনি ক্ষুদ্র শিকলবিশিষ্ট দ্রবণীয়। এর মধ্যে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন থাকে। চিনি সম্পুর্ণ অপ্রাকৃতিক একটি উপাদান. শিল্প-কারখানা রিফাইনিং পদ্ধতিতে আখের রস থেকে তৈরি করার সময় এর ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, এনজাইম এবং অন্যান্য উপকারী পুষ্টি উপাদান দূর হয়ে যায়।

কেন চিনি আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর
দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য চিনি। এ কারনে অন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। লিভার বা যকৃতের কার্যকারিতা হ্রাস, হজমে সমস্যা, মস্তিস্ক ও স্নায়ুতন্রের কার্যক্ষমতা হ্রাসের মত জটিলতা সৃষ্টি হয়। চিনি ক্যান্সার সেলেরও খাদ্য। পরিশোধিত সাদা চিনি সম্পূর্ণ একটি রাসয়নিক উপাদান। চিনি যখন রিফাইন করা হয় তখন সব ধরনের প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান দূর করা হয় যা স্বাভাবিকভাবেই একটি গাছে থাকে। আখ বা বিট থেকে রস বের করা হয় এবং রিফাইন করে মোলাসেস তৈরি করা হয়। তারপর একে রিফাইন করে ব্রাউন সুগার এবং সবশেষে রিফাইন করে সাদা স্বচ্ছ চিনি (C12H22O) প্রস্তুত করা হয় যা মানব দেহের জন্য অনুপযোগী ও ক্ষতিকর একটি রাসয়নিক উপাদান। বেশির ভাগ মানুষ সকালে চা বা কফির সাথে এক থেকে দুই চামচ চিনি মিশিয়ে খেয়ে থাকেন কিন্তু তারা জানেন না যে এই অতিরিক্ত চিনি আমাদের দেহের জন্য কতখানি ক্ষতিকর। কারন চিনির ক্ষতিকর প্রভাবগুলো তাৎক্ষনিক চোখে পড়ে না।
বিভিন্ন খাবার যেমনঃ ফল, শস্য, বাদাম এবং শাকসবজি থেকে দেহের প্রয়োজনীয় এক ধরনের চিনি পেয়ে থাকি আমরা। আমরা মনে করি, এসব খাবারে আসলে কনো চিনি থাকে না। এ জন্য অতিরিক্ত মিষ্টি হিসাবে রিফাইন্ড বা দানাদার চিনি যোগ করি। কিন্তু এই চিনি আমাদের দেহের জন্য অপ্রয়োজনীয়। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্য তালিকায় যে শর্করাজাতীয় খাবার থাকে, তা থেকে দেহে যে পরিমাণ চিনি তৈরি হয় তা আমাদের দেহে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। প্রথমে এই চিনি গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয় এবং পরে দেহে শক্তি উৎপাদন করে। যখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি গ্রহণ করা হয়, তখন তা দেহের জন্য উপকারী না হয়ে বরং তা ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায় এবং শারীরিক বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দেয়।

তালিকাটি লক্ষ করুন এবং জানুন দেহে চিনির ক্ষতিকর দিক গুলো-
• দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়,
• দেহে খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট করে,
• শিশুদের হাইপার অ্যাক্টিভিটি, বদমেজাজ, অমনোযোগী এবং একরোখা আচারণের জন্য দায়ী চিনি,
• দেহের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বারিয়ে দেয়,
• ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে শরীরের যে প্রতিরোধব্যবস্থা থাকে তা দুর্বল করে দেয় বা কমিয়ে দেয়।
• টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা এবং কার্যক্রম কমিয়ে দেয়,
• উপকারী হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন কমিয়ে দেয়,
• শরীরে ক্রোমিয়ামের অভাব দেখা দেয়,
• বিশেষ করে স্তন, ওভারি, প্রোসেস্ট ও রেকটাম ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়,
• অনাহার বা অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজ লেভেল বাড়িয়ে দেয়,
• কপারের অভাব দেখা দেয়,
• ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শোষণে বাঁধা দেয়,
• নিউরোট্রাসমিটারের লেভেল বাড়িয়ে দেয়, যেমন- ডোপামিন, সেরোটনিন এবং নরএপিনোফ্রিন,
• এসিডিটি তৈরি করে,
• শিশুদের অ্যাড্রিনালিন লেভেল দ্রুত বৃদ্ধি করে,
• অকালে বার্ধক্য আনে,
• অ্যালকোহলিজমের ঝুঁকি বাড়ায়,
• দাঁতের ক্ষয় করে,
• স্থুলতা বাড়ায়
• অতিরিক্ত চিনি গ্রহনে অন্ত্রনালীর প্রদাহ এবং আলাসারেটিভ কলিটিসের ঝুঁকি বাড়ায়,
• গ্যাস্ট্রিক বা ডিওডেনাল আলসারের কারন হতে পারে চিনি,
• আর্থ্রাইটিসের অন্যতম কারন চিনি,
• অ্যাজমা হতে পারে চিনির কারনে,
• এক প্রকার ছত্রাক (Candida albicans) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় চিনির কারনে,
• হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় চিনি।

Dr. Mujibur Rahman M.D
Cardiologist and Alternative Doctor

Leave a Reply