সবাই সুখি হতে চায়, ভালো থাকতে চায়।

নিউজ ও ইভেন্ট

মানুষের জীবন এক জটিল ধাঁধার মতো করে আবর্তিত হয়। সবাই সুখি হতে চায়, ভালো থাকতে চায়। আমারা প্রায় প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনের জটিলতার জন্য কাউকে না কাউকে দোষারোপ করে থাকি। কিন্তু ভালো থাকা ব্যাপারটা আমাদের নিজেদের মধ্যে। আমরা চাইলে নিজেরা ভালো থাকতে পারি ও অন্যকেও ভালো রাখতে চেষ্টা করতে পারি। চলুন আজ আমরা তেমন কিছু উপায় জেনে নেই।

* অন্যের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুণ:
শুধু নিজে ভালো থাকলেই হবে না, অন্যকেও ভালো রাখতে হবে। তাই আপনার চারিপাশে বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয় স্বজন সবার জন্যি কিছু করার চেষ্টা করুণ। দেখবেন জীবন অনেক সহজ ও সুন্দর হয়ে গেছে। আপনার ভিতর এক অন্যরকম তৃপ্তিময় আনন্দ অনুভব করবেন।
* নিজের শরীরের যত্ন নিন :
প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটুন । হাঁটার সময় মুখে মৃদু হাসি ধরে রাখুন, হতাশা নির্মূলে এর চেয়ে ভালো উপার আর হয়না । প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ কমিয়ে গাছের ও চাষকৃত খাবার বেশি করে গ্রহণ করুন । কারণ পুষ্টি এতে পুরোটাই পাবেন । সকালবেলায় খালি পেটে গ্রীন টি পান করলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে । তাছাড়া গ্রীন টি তে রয়েছে কিছু ভেষজ গুণ । তবে বিকেলের পর যেকোন ধরণের চা পান থেকে বিরত থাকুন ।নইলে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন । দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান নিশ্চিত করুন । পানি শরীরের ভেতর থেকে সব ধরণের বর্জ বের হতে সাহায্য করে এবং অভ্যন্তরীণ জটিলতা দূর করতে সাহায্য করে ।
* শারীরিক অনুশীলন করুণ:
সুস্থ দেহ মানেই শান্ত ও সুখী মন। আর দেহ সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন দেহকে সচল ও কর্মক্ষম রাখা। নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন করা ব্যক্তিদের মাঝে সুখের মাত্রা অনেক বেশি দেখা যায়।
* পাঠের অভ্যাস করুণ:
বই মানুষের সবচাইতে কাছের সঙ্গী, তাই বই পাঠের অভ্যাস করুণ। প্রতিদিন সকালের কাগজে চোখ বুলিয়েও নিতে পারেন। দেখবেন ভেতরে এক ধরনের উদ্দিপনা জেগে উঠবে। তছাড়াও বিভিন্ন গবেষণা ও সমীক্ষা পড়তে পারেন, এতে আপনার জীবন আরও বেশি সহজ করতে পাড়বেন।
* লক্ষ্য নির্ধারন করুণ:
লক্ষ্যহীন জীবনে শান্তি থাকে না। তাই নিজের জীবনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ও সে লক্ষ্যের দিকে ক্রমাগত এগিয়ে চলুন দেখবেন মনের শান্তি অনেকখানি বেড়ে গেছে।
* প্রতিদিন প্রার্থনা করুণ:
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনার সৃষ্টিকর্তার কাছে সারাদিন চলার জন্য একটি দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করুন । এতে নিজের উপর বিশ্বাসটা জোরালো হবে । দেখবেন আপনি চাইলেও ভুল পথে পা বাড়াতে পারছেন না। প্রতিরাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন জীবনে যা কিছু পেয়েছেন তার জন্য আর প্রার্থনা করুন আগামী দিনটির জন্য ।
* ইতিবাচক কাজ করুণ:
আপনার মূল্যবান সময়কে অহেতুক আড্ডা, নেতিবাচক ও অতীত চিন্তা অথবা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরের চিন্তা-ভাবনায় নষ্ট করবেন না । বরং ইতিবাচক বর্তমান চিন্তায় তা নিয়োগ করে ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করুন ।
* কাজের অর্থ অনুসন্ধা করুণ:
জীবিকার জন্য আপনি যে কাজটিই করেন না কেন, সে কাজটিকে অর্থবহ করে তোলা প্রয়োজন। কাজের একটি অর্জনের দিকে মনোযোগী হওয়া যেতে পারে, যা কাজকে করে তুলবে আনন্দময়।
* প্রিয় মানুষদের সান্নিধ্যে থাকুন:
অপ্রিয় মানুষের বদলে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক শান্তির জন্য অত্যন্ত দরকারি। যাদের আপনি ভালোবাসেন তাদের সঙ্গ আপনাকে সুখী করবে।
* দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলুন:
পরিবার গঠন ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি আপনার মানসিক শান্তি বাড়াবে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত মানুষ অবিবাহিতদের তুলনায় সুখী ও জীবন সম্পর্কে সন্তুষ্ট থাকে।

ছোট্ট একটি জীবনে হাজার ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে একটুখানি সময় প্রায় দেয়াই হয়ে ওঠেনা । জীবনের ঘানি টানতে টানতে আমরা ভুলেই যাই যে সুন্দরভাবে বাঁচাটাও একটি শিল্প । আর এ শিল্পকে রপ্ত করার কিছু সহজ ও সুন্দর উপায়ও রয়েছে । এই সবগুলো যদি কাজে লাগানো যায়, তবে আপনার জীবনযাপন প্রক্রিয়া হয়ে উঠবে আরও সহজ সুন্দর ও আনন্দময়।

Leave a Reply